প্রধান পাতা
নমস্কার। বাংলা সরকারভার্স–এ আপনাকে স্বাগত জানাই। সরকারভার্স একটি মুক্ত বিশ্বকোষ যা' স্বয়ংসেবক সম্পাদক এবং সম্পাদিকা-দের দ্বারা পরিচালিত হয়। যে কোনো ব্যক্তি সরকারভার্স-এর কর্মকাণ্ড-তে অংশগ্রহণ করতে পারে। যদি আপনি সরকারভার্স-এ যোগদান করতে চান, অনুগ্রহপূর্বক admin@sarkarverse.org এ একটি ই-মেল পাঠান।
নির্বাচিত প্রবন্ধ

প্রভাত সঙ্গীত হ'লো প্রভাত রঞ্জন সরকার-এর রচিত সংগীত সমূহ। ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দেওঘরে তিনি প্রভাত সঙ্গীত রচনার সূত্রপাত করেন। তার পর মাত্র আট বছরের মধ্যে তিনি ৫০১৮ টি গান রচনা করেন যা সামগ্রিক ভাবে প্রভাত সঙ্গীত নামে পরিচিত হয়। 'সঙ্গীত' শব্দটির অর্থ 'গান', কিন্তু 'প্রভাত' শব্দটির অর্থ এখানে 'সকাল' নয়, অর্থাৎ প্রভাত সঙ্গীত প্রভাতকালিক সঙ্গীত নয়। প্রভাত রঞ্জন সরকার এর নামের প্রথম অংশ থেকেই এ ক্ষেত্রে প্রভাত সঙ্গীত কথাটির উৎপত্তি হয়েছে।
প্রভাত সঙ্গীত-এর প্রথম গান বন্ধু হে, নিয়ে চলো রচিত হয় ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখে বিহারের দেওঘর শহরে। এই গানটির মাধ্যমেই প্রভাত সঙ্গীত-এর সূত্রপাত হয়। এর পরে ৮ বছর ১ মাস ৭ দিনে মোট ৫,০১৮ টি গান রচিত হয়। প্রভাত সঙ্গীত-এর শেষ গানটি রচিত হয় ২০ অক্টোবর ১৯৯০ সালে, প্রভাত রঞ্জন সরকার এর মহাপ্রয়াণের ১ দিন আগে।
অনান্য অধিকাংশ রচনার মতো প্রভাত সঙ্গীত-ও প্রভাত রঞ্জন সরকার নিজের হাতে লেখেননি। প্রভাত রঞ্জন গড়গড় করে গানের কথা এবং গানের সুর সংক্রান্ত তথ্য বলে যেতেন, এবং তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা সেই তথ্য লিপিবদ্ধ করতেন। গানের কথা লেখার কাজ শেষ হয়ে গেলে তিনি মুখে মুখে গায়কীটাও শিখিয়ে দিতেন। এই সময়ে তিনি হারমোনিয়াম, তবলা বা তানপুরা জাতীয় বাদ্য যন্ত্র-এ ব্যবহার করতেন না।
. . . আরো পড়ুন
উৎসব প্রবন্ধ

- "আমার কানু যায়" প্রভাত রঞ্জন সরকার রচিত প্রভাত সঙ্গীত-এর ৩১০৩ সংখ্যক গান। প্রভাত রঞ্জন সরকার গানটি ১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ তারিখে ভারতের কলকাতার মধুমালঞ্চ ভবনে অবস্থানকালে প্রদান করেন। এই গানের মূল ভাবটি হলো শ্রীকৃষ্ণের মথুরা যাত্রার সময় ব্রজবাসীদের (বিশেষত রাধা বা কোনো ভক্তের) গভীর বিরহ ও প্রেমময় আকুলতা। গানটির বিষয়বস্তু সনাতন কৃষ্ণলীলা এবং কৃষ্ণভক্তির একটি চিরন্তন অংশ হলেও, প্রভাত রঞ্জন সরকারের প্রভাত সঙ্গীতে এটি ভক্তের সাথে পরমপুরুষের বিচ্ছেদ ও মিলনের এক চিরন্তন আধ্যাত্মিক আকুতির প্রতীক। এটি একই সাথে প্রেম ও ভক্তিরসের এক অপূর্ব সমন্বয়।
. . . এই গানটি সম্পর্কে আরো পড়ুন - "আসা আর যাওয়া চাওয়া আর পাওয়া" প্রভাত রঞ্জন সরকার রচিত প্রভাত সঙ্গীত-এর ৩৫৫৮ সংখ্যক গান। প্রভাত রঞ্জন সরকার গানটি ২৮ মে ১৯৮৬ তারিখে ভারতের কলকাতার মধুকোরক ভবনে অবস্থানকালে প্রদান করেন। এই গানটির মূল ভাব হলো জীবন ও জগতের মৌলিক দ্বৈততা এবং এর পেছনের পরম রহস্য। গানটি জানায় যে এই সৃষ্টিতে আগমন (আসা) ও প্রস্থান (যাওয়া), এবং আকাঙ্ক্ষা (চাওয়া) ও প্রাপ্তি (পাওয়া) এই চক্রেই আমাদের জীবন আবর্তিত হয়।
. . . এই গানটি সম্পর্কে আরো পড়ুন - "তুকে ভাল্বো হামি নয়ন ভরে'" প্রভাত রঞ্জন সরকার রচিত প্রভাত সঙ্গীত-এর ৩৫৬২ সংখ্যক গান। প্রভাত রঞ্জন সরকার গানটি ৩০ মে ১৯৮৬ তারিখে ভারতের কলকাতার মধুকোরক ভবনে অবস্থানকালে প্রদান করেন। এই গানটি মূলত মধুর ভক্তি ও প্রেম নিবেদনের ভাবকে প্রকাশ করে, যেখানে ভক্ত তাঁর প্রিয়তম পরমপুরুষকে (কৃষ্ণকে) অন্তর দিয়ে কাছে পেতে চাইছেন। গানটির ভাষা সম্ভবত রাঢ় অঞ্চলের (পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী অঞ্চল) আঞ্চলিক বাংলায় রচিত, যা এর ভাবাবেগকে আরও সরল ও আন্তরিক করে তুলেছে।
. . . এই গানটি সম্পর্কে আরো পড়ুন - "ব্রজের গোপাল চলে' যায়" প্রভাত রঞ্জন সরকার রচিত প্রভাত সঙ্গীত-এর ৩৫৬৫ সংখ্যক গান। প্রভাত রঞ্জন সরকার গানটি ৩১ মে ১৯৮৬ তারিখে ভারতের কলকাতার মধুমালঞ্চ ভবনে অবস্থানকালে প্রদান করেন। এই গানটির মূল ভাব হলো বিরহ ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির এক গভীর মিশ্রণ। এটি একদিকে যেমন ব্রজের গোপাল (শ্রীকৃষ্ণ)-এর আপাত প্রস্থানকে বর্ণনা করে, তেমনই অন্যদিকে ভক্তের অন্তরে সেই প্রিয়তমের চিরন্তন উপস্থিতিকে তুলে ধরে, যা তাঁকে স্থূল দৃষ্টির বাইরেও সন্ধান করতে শেখায়।
. . . এই গানটি সম্পর্কে আরো পড়ুন
আপনি জানতেন কি?
- আনন্দমার্গ (প্রারম্ভিক দর্শন) পুস্তকে প্রভাত রঞ্জন সরকার ধর্ম, জগৎ, বিভু সত্তা প্রভৃতির সংজ্ঞা দিয়েছেন?
- বাংলা ও বাঙালী বইটির উৎসর্গপত্রে প্রভাত রঞ্জন সরকার লেখেন— "আনন্দনগরে যখন দিনদুপুরে শেয়াল ডাকত তখন যাঁরা মাটির পিদিমে তেলের সলতেয় সন্ধ্যাদীপ জ্বেলে এসেছিলেন তাঁদের নামে?"
- প্রভাত রঞ্জন সরকার এর মতে– দেহরক্ষার প্রয়োজন ব্যতীত অতিরিক্ত কোন বস্তুর আরাধনায় নিরত না থাকার নাম অপরিগ্রহ?
- প্রভাতের অরুণ আলো প্রভাত রঞ্জন সরকার এর বাংলা ভাষায় একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী?
সাথে থাকুন